ডাক্তার হতে না পারলেও তাঁদের মন্ত্রী হয়েছি, তাই আক্ষেপ ঘুচেছে’

ডাক্তার হতে পারিনি, তবে ডাক্তারদের মন্ত্র হয়েছি বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক। গত বৃহস্পতিবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসক-শিক্ষকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

জাহিদ মালেক বলেন, ‘এক সময় মেডিকেলে ভর্তির চেষ্টা করেছিলাম, এমনকি ভর্তিও হয়েছিলাম, কিন্তু ডাক্তার হতে পারিনি। দীর্ঘ দিন সেই আক্ষেপটা ছিল, কিন্তু এখন আর নেই। কারণ, ডাক্তার হতে না পারলেও এখন ডাক্তারদের মন্ত্রী হয়েছি। আল্লাহর কী লীলা খেলা।’

শৈশবের প্রসঙ্গে টেনে মন্ত্রী বলেন, ‘কুমিল্লা মেডিকেলে আমার অনেক স্মৃতি। আমার বাবা কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টে সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। আমি এখানে মেডিকেলেও ভর্তি হয়েছিলাম, কিছু দিনের স্মৃতি আছে।’

তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের অনেক অভিযোগ, আমাদের এটা নেই, ওটা নেই। এগুলোর কোনো সমস্যা থাকবে না। এখন তো শিক্ষার্থীদের গণ-টয়লেট, এটা আর থাকবে না। বর্তমান সময়ে এসে গণ-টয়লেট চলে না, এই দিন ভুলে যেতে হবে। আগামী দিনে প্রতিটি ছাত্রের জন্য একটা করে টাইলস করা টয়লেট থাকবে। বই রাখার আলাদা জায়গা থাকবে।’

জাহিদ মালেক বলেন, ‘করোনার সময়ে যখন আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম, মেডিকেল কলেজের পরীক্ষা নেব, তখন আমার মোবাইলে অন্তত ১০ হাজার গালি আসে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে। আমি বলেছিলাম, এটা করবো। এমনকি আমি সেটা করেছি, যার সুফল এখন পাওয়া যাচ্ছে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘স্কুল-কলেজসহ প্রতিটি পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা অটোপাস পেয়েছে, কিন্তু মেডিকেলে কোনো অটোপাস নেই। আমি থাকতে কোনো অটোপাস হবে না। আমরা মানুষের জীবন নিয়ে কাজ করি, ইট-বালু সিমেন্ট নিয়ে কাজ করি না।’

চিকিৎসক-নার্স নিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘তিন বছর আগেই আমাদের সরকারি চিকিৎসক ছিল ১৫ হাজার, বর্তমানে সেই সংখ্যা ৩৪ হাজারে এসে দাঁড়িয়েছে। যেখানে গত এক বছরেই ১০ হাজার হয়েছে। আমাদের টোটাল নার্স ছিল ১৮ হাজার, এখন আছে ৪৬ হাজার। এটিও হয়েছে গত তিন বছরে। মানুষ এ অল্প সময়ে আর কী করতে পারে?’


Leave a Reply

Your email address will not be published.