স্বামীর নির্যাতনে গলায় ফাঁস দিয়ে চিকিৎসকের আত্মহত্যা, স্বামী গ্রেফতার

দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে স্বামীর নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে একটি বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক রোকেয়া বেগম ডেইজি (২৭) গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

মঙ্গলবার (৯ আগস্ট) বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার দলার দর্গা মেমোরিয়াল হাসপাতালের দ্বিতীয় তলার একটি আবাসিক কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত রোকেয়া দিনাজপুরে ফুলবাড়ী উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামের সিরাজুল ইসলামের মেয়ে এবং জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার বালিঘাটা গ্রামের আরিফ হোসেনের স্ত্রী।

আজ বুধবার (১০ আগস্ট) বিকেলে এ বিষয়ে নবাবগঞ্জ থানা পুলিশের উপপরিদর্শক ও তদন্ত কর্মকর্তা আখতারুল করিম মেডিভয়েসকে জানান, মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার দলার দর্গা মেমোরিয়াল হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় আবাসিক কক্ষে পারিবারিক কলহের জেরে আত্মহত্যা করেছেন।

পুলিশ জানায়, তারা দুজনই চিকিৎসক। আরিফ হোসেন বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্মরত। রোকেয়া বেগম ডেইজি দলার দর্গা মেমোরিয়াল হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন। তিনি ওই হাসপাতালের কোয়ার্টারে থাকতেন। তার স্বামী গত সোমবার চিরিরবন্দর থেকে স্ত্রীর কাছে আসেন। রাতে তাদের মধ্যে বাক-বিতণ্ডা হলে মঙ্গলবার বিকেলে রোকেয়া তার কক্ষে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন। আত্মহ্যার আগ মুহূর্তে রোকেয়া একটি সুইসাইড নোট লিখে যান। স্বামী আরিফ হোসেনের অত্যাচারে তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন বলে উল্লেখ করেছেন সেই সুইসাইড নোটে। সেখানে স্বামীর বিচারও দাবি করেছেন রোকেয়া।

এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে নিহত রোকেয়া বেগম ডেইজির বাবা সিরাজুল ইসলাম বাদী হয়ে নবাবগঞ্জ থানায় আরিফ হোসেনসহ তার মা ও বোনের নামে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলার প্রেক্ষিতে পুলিশ রোকেয়া বেগমের স্বামী আরিফ হোসেনকে গ্রেফতার করে দিনাজপুর জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। আর বাকি দুইজন পলাতক রয়েছেন বলেও জানান এই তদন্ত কর্মকর্তা।

 

©মেডিভয়েচ

Leave a Reply

Your email address will not be published.