স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নার্স ও নার্সের মেয়েকে যৌন হয়রানির অভিযোগ

চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. বেলায়েত হোসেনের বিরুদ্ধে সিনিয়র নার্স এবং সহকারী এক নার্সের মেয়েকে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। হোয়াটসঅ্যাপ মেসেঞ্জার ও ভিডিও চ্যাটে অশালীন প্রস্তাব দেওয়ার ঘটনায় চাঁদপুর সিভিল সার্জনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

রবিবার (০৭ আগস্ট) রাতে এ ঘটনায় দুটি অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা সিভিল সার্জন ডা. শাহাদাত হোসেন।
তিনি বলেন, ‘ডা. বেলায়েতের বিরুদ্ধে দুটি অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগগুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক সহকারী নার্স চাকরির সুবাদে তার কলেজশিক্ষার্থী মেয়েকে নিয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কোয়ার্টারে থাকেন। সম্প্রতি ডা. বেলায়েত হোসেনের সঙ্গে নার্সের মেয়ের পরিচয় হয়। তখন কলেজশিক্ষার্থীর মোবাইল নম্বর চান বেলায়েত। মোবাইল নম্বর দিতে রাজি না হলে জোরপূর্বক নিয়ে নেন। মোবাইল নম্বর নেওয়ার পর থেকে হোয়াটসঅ্যাপ মেসেঞ্জারে ফোন দিয়ে অশ্লীল কথাবার্তা, মেসেজ ও ছবি পাঠান। সেইসঙ্গে ওই কর্মকর্তার স্ত্রী বাসায় না থাকলে ছাত্রীকে বাসায় যাওয়ার প্রস্তাব দেন। ওই কর্মকর্তার কথা না শুনলে ছাত্রীর মাকে অন্যত্র বদলি করার হুমকি দেন।

কলেজশিক্ষার্থী বলেন, ‘আমি ডা. বেলায়েতকে বাবার মতো শ্রদ্ধা করি। অথচ আমার সঙ্গে যে ধরনের অশ্লীল কর্মকাণ্ড করতে চেয়েছেন তিনি, তা প্রকাশ করার মতো নয়। হোয়াটসঅ্যাপ মেসেঞ্জারে তার কর্মকাণ্ডের প্রমাণ আছে। তার যৌন হয়রানির কারণে আমি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। নিরুপায় হয়ে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সিভিল সার্জনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।’

এদিকে, ডা. বেলায়েতের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগে সিভিল সার্জনের কাছে আরেকটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন সিনিয়র এক নার্স।

তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেন, করোনার টিকা দেওয়ার প্রণোদনা হিসেবে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আট নার্সকে ২৪ হাজার করে এক লাখ ৯২ হাজার টাকা দেয় মন্ত্রণালয়। আট নার্সকে শুধুমাত্র ৪৮ হাজার টাকা দিয়ে বাকি টাকা অফিস খরচ বাবদ কেটে রাখেন বেলায়েত হোসেন। এসব টাকা চাইলে ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপ মেসেঞ্জারে অশ্লীল কথা বলে হয়রানি করেন। অফিসে আপত্তিকর কথাবার্তা বলেন। যৌন হয়রানির ভয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নার্সরা তার অফিস রুমে যেতে ভয় পান। এজন্য অনেক নার্স প্রণোদনার টাকা দাবি করেন না। তার যৌন হয়রানির কারণে কাজে মনোযোগ দিতে পারছি না আমরা। এজন্য জেলা সিভিল সার্জনের কাছে লিখিত অভিযোগ ও ভিডিও বক্তব্য জমা দিয়েছি।

এই সিনিয়র নার্স বলেন, ‘ডা. বেলায়েত বিভিন্ন সময় হোয়াটসঅ্যাপ মেসেঞ্জারে অশ্লীল কথাবার্তা লিখে পাঠান। এতে আমার পরিবারে অশান্তি সৃষ্টি হয়েছে। সেইসঙ্গে ফেসবুকে কোনও পোস্ট দিলে বাজে মন্তব্য করেন। ফলে পোস্টগুলো ডিলিট করতে বাধ্য হই। আমাকে দেখলেই অশ্লীল মন্তব্য করেন। নার্সদের প্রণোদনা অফিস খরচ দেখিয়ে নিজেই আত্মসাৎ করেছেন। এজন্য প্রতিকার চেয়ে সিভিল সার্জনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।’

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.