একই সেশনে ভর্তি হয়েও সেশন জটে বৈষম্যের স্বীকার রামেবি,চমেবি নার্সিং শিক্ষার্থীরা

ব্যাচেলর অব সায়েন্স ইন নার্সিং অর্থাৎ বিএসসি ইন নার্সিং পড়তে হলে বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিলের অধীনে ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে পাস করলে বেসরকারি নার্সিং কলেজ এ ও মেধাতালিকার ভিত্তিতে সরকারি নার্সিং কলেজ এ ভর্তির সুযোগ পান নার্সিং পড়তে আগ্রহী শিক্ষার্থীরা।

এদিকে একসাথে ভর্তি হলেও বিএসসি ইন নার্সিং অঞ্চল ভেদে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে হয়ে থাকে যার ফলে পরবর্তীতে দেখা যায় বিভিন্ন বৈষম্য।

বাংলাদেশে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে শিক্ষার্থীদের নার্সিং কারিকুলামে পড়াশোনা ও সনদ প্রদান করা হয়ে থাকে।বিশ্ববিদ্যালয় গুলো নিম্নরূপঃ

১.ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ফেকাল্টি অব মেডিসিন,নার্সিং অনুষদ)

২.রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়

৩.চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়।

৪.সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়

৫.বিইউপি

৬.বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়

৭.যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়(স্বাস্থ্য ও পুষ্টি অনুষদ)

৮.আইইউবিএট ইউনিভার্সিটি

একযোগে ভর্তি পরীক্ষা ও ভর্তি কার্যক্রম শেষ হলেও শিক্ষাজীবনে বিস্তর ফারাক দেখা যাচ্ছে এসব শিক্ষার্থীদের।

পর্যালোচনা করে দেখা যায় বাংলাদেশ প্রফেশনাল ইউনিভার্সিটির অধীনে আর্মি নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থীরা ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় এর শিক্ষার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন কোর্স শেষ করার দিক থেকে।করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলা করেও স্বাভাবিক রয়েছে এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের।

এর পর ই অবস্থান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত শিক্ষার্থীদের পূর্বে সহনীয় জট থাকলেও করোনা পরিস্থিতি সেশনজটে পড়ে শিক্ষার্থীরা প্রায় ৬-৮ মাসের একটি সেশনজট সৃষ্টি হয়ে যা পূর্বে ছিলো না।

বর্তমানে সেশনজট নেই ২০১৮-১৯ সেশন থেকে সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত শিক্ষার্থীদের।

সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি বিরাজমান রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত শিক্ষার্থীদের।

এ বিশ্বিবদ্যালয়ে ২০১৭-১৮ সেশন থেকে নার্সিং শিক্ষাকারিকুলাম ও সার্টিফিকেট প্রদান করে আসছে।

তবে ২০১৭-১৮ সেশন থেকেই সেশনজট ভয়াবহ পরিস্থিতি ধারণ করেছে।

অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে একই সেশনের শিক্ষার্থীদের কোথায় ফলাফল প্রকাশ ও কোথায় পরীক্ষা শেষ হলেও এখানে ৩য় বর্ষের ফলাফল হয়েছে মাত্র।

শিক্ষার্থীদের দাবি সেশনজট নিরসনে শিক্ষার্থীদের আন্তরিকতা থাকলেও নির্বাক বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একাধিকবার ডিন বরাবর দরখাস্ত করেও সঠিক কোনো গাইডলাইন পাচ্ছেন না তারা।

অন্যদিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্তদের অবস্থাও কিছুটা করুন।

এসব বৈষম্য নিরসনের জন্যে বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিল কে সমন্বিতভাবে কাজ করতে বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

সরকারি তে অধ্যয়নরত এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৃত্ত দেওয়া হলেও তা শুধুমাত্র ৪বছর নির্দিষ্ট থাকে, পরবর্তী সেশনজট সৃষ্টি হয়ে কোর্সের সীমা বাড়লেও বাড়েনা স্টাইপেন্ড এর মেয়াদ, কোর্স শেষ না হওয়া পর্যন্ত স্টাইপেন্ড চালু রাখার অনুরোধ শিক্ষার্থীদের।

Leave a Reply

Your email address will not be published.