চার নার্সিং ছাত্র ৯ ঘণ্টা তালাবদ্ধ , উদ্ধার করলেন ইউএনও

চুয়াডাঙ্গা নার্সিং ইন্সটিটিউটের চার ছাত্রকে ৯ ঘণ্টা তালাবদ্ধ করে রেখেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। খবর পেয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীম ভূঁইয়া গিয়ে তাদের উদ্ধার করেন। ইনস্টিটিউটের একটি ভবনে বুধবার (২০ জুলাই) তাদের আটকে রাখা হয়।

ওই চার ছাত্র হলেন প্রথম বর্ষের আজিজুর রহমান ও শওকত হোসেন এবং দ্বিতীয় বর্ষের সাকিব হাসান ও তৌফিকুল ইসলাম।ইন্সটিটিউটের প্রধান সহকারী রফিকুল ইসলামের নির্দেশে দপ্তরি আনসার আলী ও প্রহরী মোহাম্মদ রফিক তালা লাগিয়ে দেন বলে তাদের অভিযোগ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সদর হাসপাতাল চত্বরের নার্সিং ইন্সটিটিউটে প্রতিষ্ঠার শুরু থেকে ছাত্রীদের ভর্তির সুযোগ ছিল। দুই বছর ধরে ছাত্রদের নার্স হিসেবে ভর্তির সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। ছাত্রীদের জন্য আবাসন সুবিধা থাকলেও এখনো ছাত্রদের তেমন সুবিধা নেই।

তবে করোনাকালে বাড়ির মালিকেরা ভাড়া বাসা ছেড়ে দিতে বলেন। এরপর থেকে হাসপাতালের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ও সিভিল সার্জনের মৌখিক নির্দেশে কর্মকর্তাদের অব্যবহৃত চারতলা ভবনের কক্ষে তাদের থাকতে দেওয়া হয়। সেই থেকে সাত ছাত্র সেখানে থাকেন।

শিক্ষার্থীরা জানান, ইন্সটিটিউটের প্রধান সহকারী রফিকুল ইসলাম ছাত্রদের ভবন ছাড়ার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। বুধবার সকালে দপ্তরি আনসার আলী ও প্রহরী মোহাম্মদ রফিককে প্রধান ফটকেতালা ঝুলিয়ে দিতে বলেন। এতে চার ছাত্র আটকা পড়েন।

খবর পেয়ে ইউএনও ও পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম ভূঁইয়া, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাজহারুল ইসলাম ও কাউন্সিলর কামরুজ্জামান চাঁদ ঘটনাস্থলে আসেন। এ সময় কামরুজ্জামান কল করে জানতে চাইলে রফিকুল ইসলামের বলেন, ইন্সটিটিউটের ইনচার্জ আলোমতি বেগমের নির্দেশে তালা লাগানো হয়েছে।

 

পরে ইউএনও এ বিষয়ে জানতে চাইলে আলোমতি বেগমের অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি ইউএনওকে বলেন, ‘আমি ছুটিতে আছি। আমার অনুপস্থিতির সুযোগে রফিকুল তালা ঝুলিয়েছেন। চাবি প্রহরীর কাছে আছে।’ পরে ইউএনওর নির্দেশে তালা খুলে দেন।

ইউএনও শামীম ভূঁইয়া বলেন, যার নির্দেশে ঘটনাটি ঘটেছে, যারা জড়িত, কেউই কাজটি ভালো করেননি। ভবনটিতে কেউ থাকেন না, বিকল্প আবাসনের ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত ছাত্রদের সেখানে রাখা প্রয়োজন। জড়িত রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য হাসপাতালের ব্যবস্থাপককে বলা হবে।

 

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আতাউর রহমান বলেন, ঘটনা তদন্তে আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ফাতেহ আকরামকে প্রধান করে বৃহস্পতিবার তিন সদস্যের কমিটি করা হবে। তদন্তে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.