নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কলেজ জামালপুরের নার্সিং ইন্সট্রাক্টর এর বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের লিখিত অভিযোগ

নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কলেজ জামালপুরের নার্সিং ইন্সট্রাক্টর ইনচার্জ রানী রহমানের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ এনে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরে ডাকযোগ এ ৩৪ টি লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছে শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ নানা ভাবে হয়রানি করছেন রানী রহমান, প্রকাশ্যে অন্যান্য শিক্ষকদের সাথেও দ্বন্দে জড়িয়েছেন বলে জানা গেছে,নিম্নে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ গুলো তুলে ধরা হলো;

যথাবিহিত সম্মান প্রদর্শন পূর্বক বিনীত নিবেদন এই যে, আমরা নার্সিং এন্ড মিডওয়াইফারি কলেজ, জামালপুর এর শিক্ষার্থীবৃন্দ। দীর্ঘদিন যাবত আমাদের কলেজে আমরা বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হয়ে আসছি। নিম্নে সমস্যা গুলো উল্লেখ করা হলোঃ

১. করোনার প্রকোপ বৃদ্ধির কারণে ২০২০ সালের ১৭ ই মার্চ আমাদের কলেজ বন্ধ হয় এবং এ সময় আমাদের খাবারের সম্পূর্ণ ১ লক্ষ ৪৭ হাজার টাকা নার্সিং ইনস্ট্রাক্টর ইনচার্জ ম্যামের নিকট জমা থাকে। পরবর্তী সময়ে আমরা যখন আবার হোস্টেলে অবস্থান করি তখন থেকে এখন পর্যন্ত আমরা সে টাকার কোনো হিসাব পাইনি।

২. আমাদের কলেজের অফিস সহকারি মোঃ নূরুল ইসলাম ২০১৭ সাল থেকে যৌতুক ও নারী নির্যাতন কেসের একজন আসামী। মামলা নং- ৯৮/১৯ বাদীঃ সানজিদা আক্তার। ওনার নামে গত এক বছর যাবত গ্রেফতার পরোয়ানা জারি হওয়া সত্ত্বেও তিনি নিয়মিত অফিস করে যাচ্ছেন এবং হোস্টেলে অবস্থান করছেন। এখন পর্যন্তও তার বিরুদ্ধে কলেজ থেকে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

৩. অফিস সহকারী, ক্যাশিয়ার ও রান্নার বাবুর্চি তারা সবসময়ই মেয়েদেরকে ধমক দিয়ে কথা বলেন। খারাপ ব্যবহার করেন এবং মেয়েরা রান্নার বিষয়ে রান্নার বাবুর্চিকে কিছু বললে রেগে যায় এবং তেলের বোতল সহ বিভিন্ন জিনিস পত্র ছুড়ে মারেন। এসব বিষয় নিয়ে যদি আমরা নার্সিং ইন্সট্রাক্টর ইনচার্জ ম্যামের কাছে বিচার দেই তাহলে তিনি শিক্ষার্থীদের কথা প্রাধান্য না দিয়ে তাদের কথা শোনেন এবং তাদের সামনেই আমাদেরকে বকাবকি করেন।

৪. হাউসকিপার প্রায় সবসময়ই মেয়েদের বিভিন্ন ধরনের অপমান মূলক কথা বলেন এবং অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন। তিনি আমাদের ছাত্রীত্ব বাতিল ও হোস্টেল থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেন। এমনকি তোদের এক একটার কলিজা কেটে ভুনা করে খাবো এমন কথা পর্যন্ত তিনি আমাদের বলেছেন কিন্তু এর বিরুদ্ধে আমরা নার্সিং ইন্সট্রাক্টর ইনচার্জ ম্যামের কাছে যাওয়ায় তিনি উল্টো আমাদের বকাবকি করেন এবং হাউস কিপারের কথাকে সমর্থন করেন। নার্সিং ইন্সট্রাক্টর ইনচার্জ ম্যাম ও হাউস কিপার এমন ধরনের কথাও মেয়েদেরকে বলেন তোমরা তো নাইট পাশে থাকো।

৫. আমরা ভর্তির সময় কলেজের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের জন্য টাকা দেই। তা সত্ত্বেও প্রত্যেকটি অনুষ্ঠানের জন্য আমাদের কাছ থেকে চাঁদা উঠানো হয় কিন্তু পরবর্তীতে এই টাকার কোন হিসাব আমাদের দেন না।

৬. একজন সরকারি সিনিয়র স্টাফ নার্স একই সাথে দুইটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত থাকতে পারেন না, জানা সত্ত্বেও আমাদের ইন্সট্রাক্টর ইনচার্জ ম্যাম আমাদের বেশিরভাগ ক্লাস সিনিয়র স্টাফ নার্সদের দিয়ে করান। রুটিনে ইন্সট্রাক্টর ইনচার্জ ম্যামের ক্লাস থাকা সত্ত্বেও বছরে একটা ক্লাসেও তিনি করান না। এই বিষয়ে কথা বল্লে আমার সময় নেই বলে চালিয়ে দেন এবং আমাদের কথায় কর্ণপাত করেন না।

৭. ইন্সট্রাকটর ইনচার্জ ম্যাম ছাত্রছাত্রীদের হুমকি দেয় এবং এটাও বলে যে, তার কাছ থেকে তার চেয়ার কেউ কোনদিন কেড়ে নিতে পারবে না আর শিক্ষার্থীদের পাস ফেল নাকি তার হাতে এই বলে আমাদের হুমকি দেন।

৮. সম্প্রীতি আমাদের কলেজে হাই বেঞ্চ আনা হয়েছে। তাই আমাদেরকে হাই বেঞ্চে বসে ক্লাস করতে হয়। আমাদের ক্লাস রুমের বেশির ভাগ ফ্যানই নষ্ট আমরা তা নিয়ে কথা বলা সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত নতুন ফ্যানের ব্যবস্থা করা হয়নি এবং পুরানো নষ্ট ফ্যান গুলোও ঠিক করে দেওয়া হয়নি। আমাদের ওয়াশরুমে কোন লাইট দেওয়া হয়নি, লাইট দেওয়ার কথা বলা হলে হাউসকিপার আমাদেরকে নিজ দায়িত্বে কিনে নিতে বলেন।

৯. ইন্সট্রাকটর ইনচার্জ ম্যাম আমাদের ডাইনিং টেবিলগুলো কেটে ছোট করে ফেলেছেন।

১০. আমাদের কলেজে কোন ব্লাড প্রেসার মেশিন এবং ফার্স্ট এইডের ব্যবস্থা নেই। ব্লাড প্রেসার মেশিন কেনার কথা বলা হলে ইন্সট্রাক্টর ইনচার্জ ম্যাম বলেন কলেজে সরকারি কোনো বাজেট আসে না।

১১. কোনো কিছু হলে ইন্সট্রাক্টর ইনচার্জ ম্যাম শিক্ষার্থীদের বৃত্তিভাতা বন্ধের হুমকি দেন।

১২. বিভিন্ন সময় ঘটে যাওয়া অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় ইন্সট্রাক্টর ইনচার্জ ম্যাম ও হাউসকিপার মিলিতভাবে প্রতিনিয়ত আমাদের আর্থিক, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করছেন এবং আমাদের অভিভাবকগণকে ও হয়রানি করছেন।

১৩. ডি.জি.এন.এম এর নির্দেশ অনুযায়ী মিডওয়াইফারি প্রত্যেকটা ছাত্রীকে wi-fi প্রদান করার কথা কিন্তু এখনও আমাদের

কলেজে কোন wi-fi এর ব্যবস্থা করা হয় হয়নি এবং দিনের পর দিন wi-fi বিল ঠিকই নিচ্ছেন তিনি।

১৪. আমাদের কলেজে ২৪ ঘন্টার কোনো সিকিউরিটি গার্ড নেই। একজন নাইট গার্ড আছেন কিন্তু সে বেশির ভাগ সময়ই অসুস্থ থাকে। তিনি কলেজ প্রাঙ্গণে ধূমপান করেন এবং মেয়েরা কিছু বল্লে তিনি ধমক দেন। এসকল বিষয় ইন্সট্রাক্টর ইনচার্জ ম্যাম জানা সত্বেও আজ অবধি কোনো ব্যবস্থা গ্রহন করেননি।

১৫. আমাদের কলেজে কম্পিউটার বাবদ অনুদান আসা সত্বেও কোনো নতুন কম্পিউটার কেনা হয়নি। কম্পিউটার ল্যাবের সকল

কম্পিউটারই অকেজো এবং আমাদের হাতে কলমে কম্পিউটারের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় না।

১৬. লাইব্রেরিতে স্টাডি করার মত কোনো সুযোগ আমাদের দেওয়া হয় না।

১৭. হাউজকিপার আমাদের ক্লাসরুমে ডেকে নাম প্রেজেন্ট করান, কেউ অসুস্থ হলে তাকে ফোন দিলে সে নানা অজুহাত দেখায়, আমাদের বকাঝকা করে এবং বলে আমি কি ঘাড়ে করে নিয়ে যাব।

১৮. আমাদের নার্সিং কলেজ হওয়া সত্ত্বেও পুরো কলেজে মেয়েদের প্রাথমিক চিকিৎসার কোনো ব্যবস্তা নেই।

১৯. আমাদের কলেজে আউট পাসের কোন ব্যবস্তা নেই। অনেক অনুরোধ করার পর মার্চ ২০২২ থেকে আমাদের মাসে ১ দিন বাহিরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু মাসে ১ দিন বের হতে গেলেও হাউজকিপার নানা ধরনের কটূক্তিমূলক কথা বলে এবং হয়রানি করে।

২০. আমাদের কলেজে কোনো সুইপার নেই।

২১. ময়লা ফেলার ঝুড়ি নিচ তলায় নামিয়ে নেয়া হয়েছে যার ফলে আমাদের ময়লা নিচে নেওয়ায় পুরো হোস্টেলের বিভিন্ন জায়গায় ময়লা বেড়ে গেছে নোংরা পরিবেশের দরুন মশা মাছির উপদ্রব বৃদ্ধি পেয়েছে। যার ফলে আমারা অসুস্থ হচ্ছি।

২২. ছেলেদের আবাসিক হোস্টেলের ব্যবস্থা থাকা সত্বেও তাদের হল বর্তমানে মেডিকেল কলেজের দখলে এবং ছেলেদের থাকা, খাওয়া ও বর্ষার সময় বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।

২৩. বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকায় প্রায় বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং তার দরুন হোস্টেলে অবস্থানকারী শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। বিদ্যুৎ চলে গেলে কোনো জেনারেটরের ব্যবস্থা নেই।

২৪. শিক্ষার্থীদের সম্মুখেই ইন্সট্রাক্টর ও ইন্সট্রাক্টরইনচার্জদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এবং একপর্যায়ে তারা দু-পক্ষই একে অপরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন।

২৫. নিয়মানুযায়ী হাউসকিপার হোস্টেলের ভিতরে অবস্থান করে কিন্তু আমাদের হাউসকিপার আলাদা কোয়ার্টার এ বিনামূল্যে স্ব পরিবারে থাকেন।

২৬. ইন্সট্রাক্টর ইনচার্জ ম্যাম তার অন্যান্য সহকর্মীদের চাইতে সবসময় হাউজকিপারকে বেশি প্রাধান্য দেন।

২৭. আমরা মেসের বাজারে গেলে তিনি বলেন, আমরা নাকি পুরুষ মানুষের ঘষা খাওয়ার জন্য বাজারে যাই।

২৮. সকল ব্যাপারে তিনি নিজের মতামত কেই শুধু প্রাধান্য দেন যার কারনে অন্য শিক্ষকগণ কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। কারণ তারা অপমানিত হতে চান না। কলেজের প্রয়োজনীয় কাজ করার সময় অন্য কোনো ম্যাম দের সাথেই পরামর্শ করেন না যার ফলে আমরা আমাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হই। আমরা আমাদের চাহিদার কথা বল্লেই অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। আমাদের এবং আমাদের বাকি ম্যামদের মতামতের কোনো মূল্য দেন না।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ কপি ডিজিএনএম বরাবর

২৯. বিভিন্ন সময় আমাদের বিরুদ্ধে চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের উস্কিয়ে দেন এবং আমাদের বাজার না করে দেওয়া, আমাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করাসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে আমাদের পাশে না দাঁড়ানোর হুমকি দেন।

৩০. ইন্সট্রাক্টর ইনচার্জ ম্যামের সাথে তার সহকর্মীদের কোনো সুসম্পর্ক নেই।

৩১. কলেজের চলতে থাকা বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে প্রতিবাদ করতে যাওয়ায় শাস্তি স্বরূপ ছাদ বন্ধ করে দেওয়া হয়, যার ফলে আমাদের

স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশে কাপড় শুকাতে হয় এবং এর জন্য মেয়েদের বিভিন্ন ধরনের চর্মরোগ যেমন স্ক্যাবিস ও ইউ.টি. আই এর মতন সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। ৩২. নষ্ট ফ্যান মেরামত করার জন্য শিক্ষার্থীদের থেকে চাঁদা উঠানো হয়, পরবর্তীতে ফ্যান মেরামত করা হয় না এরকম ঘটনা

প্রায় প্রতিনিয়তই ঘটছে।

৩৩. শিক্ষার্থীদের বাসায় আত্মীয়-স্বজন অসুস্থ হলে ছুটির আবেদন করলে নার্সিং ইন্সট্রাক্টর ইনচার্জ ম্যাম বলেন “কেউ মরলে

ছুটি পাবে, মারা তো আর যায়নি অসুস্থ হলে তুমি গিয়ে কি করবে” আবার বলেন, “চাচা না বাপ মরলে ছুটি দিবো” এবং

“আল্লাহ না করুক তোমার মায়ের আরো অবস্থা খারাপ হলে তখন ছুটি পাবে”

৩৪. অফিস টাইম আট টা থেকে শুরু হওয়া সত্ত্বেও হাউসকিপার কখনোই সঠিক সময়ে অফিসে উপস্থিত থাকেন না তিনি এগারো টা, সাড়ে এগারো টা এবং বেশির ভাগ সময় অফিসে উপস্থিতই হন না। আমরা কোন প্রয়োজনেই তাকে কখনোই অফিসে উপস্থিত পাইনি। তাকে ফোন করে বাসা থেকে ডেকে আনতে হয়।

সর্বশেষে আপনার কাছে আমাদের অনুরোধ ডি.জি.এন.এম থেকে সরজমিনে এসে তদন্ত করে এবং শিক্ষার্থীদের সাথে সরাসরি কথা বলে উক্ত সমস্যার সমাধান করলে আমরা আপনার কাছে চির কৃতজ্ঞ থাকিব।

Leave a Reply

Your email address will not be published.