চট্টগ্রাম মেডিকেলে নার্সদের ওপর ইন্টার্ন ডাক্তারদের হামলা, নেতৃত্বে অভিজিৎ-ইয়ন

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে স্টাফ নার্সদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে ইন্টার্ন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে।

মঙ্গলবার (৭ জুন) বিকাল ৪টায় এই ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, হামলাকারীরা নওফেল গ্রুপের বহিস্কৃত ছাত্র অভিজিৎ দাশ ও তার দলবল। অভিজিৎ এমবিবিএস ৬০তম ব্যাচের ছাত্র। এর আগে তাকে দেড় বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়। হামলায় জড়িত আরও যাদের নাম এসেছে— ইমন শিকদার, তৌফিকুর রহমান ইয়ন, কেএম তানভীরসহ আরও কয়েকজন। এরা সবাই নওফেল গ্রুপের বলে জানা গেছে।
এদিকে জানা গেছে, ঘটনার পরপরই স্টাফ নার্সরা হামলাকারীদের শাস্তির দাবিতে পরিচালকের কক্ষে চলে যায়

সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. শামীম আহসানের রুমে মিটিং চলছিল স্টাফ নার্সদের।

চট্টগ্রাম মেডিকেলের নার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আশু চৌধুরী চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, ‘এমবিবিএস ৫ম বর্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থী তাদের একজন আত্মীয়ের ভাঙা পায়ের চিকিৎসা করাতে ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে যান। তখন ওয়ার্ডের ব্রাদার আব্দুল্লাহ আল সাফি রেজিস্টারে নথিভুক্ত করতে রোগীর নাম ও মোবাইল নম্বর জানতে চান। একবার বললে তা বোঝা না যাওয়ায় ব্রাদার আরেকবার জিজ্ঞাসা করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে স্টুডেন্টরা ব্রাদার সাফিকে শার্টের কলার চেপে ধরেন। স্টাফ নার্স তাসলিমা এ ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে আসলে তাকে মারধর করে স্টুডেন্টরা। তাসলিমা গর্ভবতী ছিল বলে জানা গেছে। তিনি এ হামলায় পেটে ব্যথা পান।

এ ঘটনায় ওয়ার্ডের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা এসে প্রতিবাদ করলে স্টুডেন্টরা আরও ক্ষেপে যায়। এ নিয়ে বাকবিতণ্ডায় জড়ায় তারা।

হামলায় অংশগ্রহণকারী স্টুডেন্টদের পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি আশু চৌধুরী।

তবে এ হামলার একটি ভিডিও ফুটেড চট্টগ্রাম প্রতিদিনের হাতে আসে। ভিডিওতে দেখা যায় হাসপাতালের এক নার্সের শার্টের কলার ধরে টেনে এনে চড় মারেন তৌফিকুর রহমান ওরফে ইয়ন। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ৫৮তম এমবিবিএস ব্যাচের ছাত্র ইয়ুন। এর আগে তাকে মারামারির ঘটনায় এক বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়।

অভিজিৎ দাশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এই ঘটনায় একটি স্ট্যাটাস দেন। তিনি লেখেন, ‘গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জুনায়েদ সাকিকে প্রোটোকল দেয়ার প্রস্তুতিকালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জুনায়েদ সাকির অনুসারী কিছু স্টাফ, নার্সদের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে প্রতিহত করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও শক্ত হাতে প্রতিহত করবে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ।’

এ বিষয়ে জানতে অভিজিৎ দাশের নম্বরে কল দিলে সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে তিনি ফোন কেটে দেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.