কম্প্রেহেন্সিভ পরীক্ষার ফলাফলে ভরাডুবি হলেও লাভবান PCT রা,নিরব নার্স সমাজ

বিশেষ প্রতিবেদন-

বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিলের অধীনে নার্সিং পড়তে হলে ডিপ্লোমা ইন নার্সিং ও ডিপ্লোমা ইন মিডওয়াইফারির জন্যে নূন্যতম এইসএসসি পাস বা সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের সসর্বনিম্ন ৬ পয়েন্ট এবং বিএসসি ইন নার্সিং এর জন্যে বিজ্ঞান বিভাগ(উভয় এসএসসি,এইসএসসি) থেকে সর্বনিম্ন ৭ পয়েন্ট পেলে তবেই আবেদনের যোগ্যতা অর্জন করেন একজন শিক্ষার্থী।

ভর্তি পরীক্ষাতে অংশগ্রহণ করে মেধার ভিত্তিতে সরকারি নার্সিং কলেজ ও ইন্সটিটিউট পড়ার যোগ্যতা অর্জন করেন তারা।

বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিল এর কারিকুলাম ঃ

বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিলের কারিকুলাম আন্তর্জাতিক মানের ও সম্পূর্ণ ইংরেজি মাধ্যম, যেখানে মেডিকেলের সকল সাবজেক্ট পড়ানো হয় ও হাতে কলমে শিখানো হয় সবকিছু।

পাস মার্ক ও পরীক্ষা পদ্ধতিঃ

ডিপ্লোমা ইন নার্সিং ও ডিপ্লোমা ইন মিডওয়াইফারি ২০১৯ সাল থেকে নতুন কারিকুলামে বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিলের অধীনে সারাদেশে একযোগে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় সেখানে সর্বনিম্ন ৬০% নম্বর পেয়ে লিখিত,ওরাল,ওস্পি প্রতিটি তে আলাদা আলাদাভাবে পাস করতে হয়।

বিএসসি ইন নার্সিং কোর্স দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পরীক্ষা হয়ে থাকে।

এইসএসসির পরে ডিপ্লোমা সার্টিফিকেট মানঃ

বাংলাদেশ এ এইসএসসি পাস করে নার্সিং এ ভর্তি শুরু হয় ২০০৮ সাল থেকে ব্যাচেলর অব সায়েন্স ইন নার্সিং কোর্স চালুর পর থেকে, বিএসসি দের অনার্স সমমান দিলেও এন্ট্রি লেভেল বাড়ানো এক যুগেও বাড়ানো হয়নি ডিপ্লোমা ইন নার্সিং এর সার্টিফিকেট এর মান।

পূর্বে এসএসসি পাস করে ডিপ্লোমা করে এইসএসসি সমমান হত, বর্তমানে এইসএসসি পাস করে ডিপ্লোমা করেও আবার এইসএসসি সমমান দেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশ কারিগরি বোর্ডের শিক্ষার্থীদের নার্সিং এ আগমনঃ

বাংলাদেশে কারিগরি বোর্ডের অধীনে ডিপ্লোমা ইন পেশেন্ট কেয়ার টেকনোলজিদের কে বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিলের অধীনে ডিপ্লোমা ইন নার্সিং সমমান দিতে হাইকোর্ট এর নির্দেশনা ছিলো।

সেই নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্যে ২০২১ সালে নার্সিং কম্প্রেহেন্সিভ পরীক্ষায় বসায় নার্সিং কাউন্সিল।

পেশেন্ট কেয়ার টেকনোলজিদের কোর্স কারিকুলামঃ

ডিপ্লোমা ইন পেশেন্ট কেয়ার টেকনোলজি কারিগরি বোর্ডের সম্পূর্ণ আলাদা একটি কোর্স ও কারিকুলাম যা নার্সিং কাউন্সিলের কোর্সের সাথে কোনো মিল পাওয়া যায় না।

ডিপ্লোমা ইন পেশেন্ট কেয়ার টেকনোলজি এসএসসি পাস করে বয়সের কোনো বাধা না থাকায় ৩০-৩৫ উর্ধ্বের অনেকে ভর্তি হতে থাকে এই কোর্সে, অন্যদিকে বাংলা মিডিয়ামে কারিগরি পেশেন্ট কেয়ার টেকনোলজিদের কারিকুলাম যেখানে ৪বছরের কারিকুলাম র ২বছর ই বাংলা, ইংরেজি, বিজ্ঞানের বিষয় গুলো বাংলাতে পড়ানো হয়, ৩য় বর্ষে ৬ মাস ইন্টার্নি ও শেষ ৩ সেমিস্টারে নামে মাত্র মেডিকেলের এনাটমি,ফার্মাকোলজি, নার্সিং, কমিউনিটি মেডিসিন বিষয়ে পড়ানো হয়।

সম্পূর্ণ ভিন্ন কারিকুলামের শিক্ষার্থী হওয়ার পরেও ২০২১ সালে তারাও রেজিস্ট্রার নার্স সনদ পেয়ে গেলো,যেখানে ডিপ্লোমা ইন নার্সিং এ এন্ট্রি লেভেল বাড়ালেও এক যুগেও বাড়েনি সার্টিফিকেট এর মান।

ডিপ্লোমা ইন পেশেন্ট কেয়ার টেকনোলজি ফলাফল ভরাডুবি হলেও লাভবান তারাঃ

২০১৯-২০ সা পর্যন্ত ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের ও এযাবৎ উত্তীর্ণ সকল শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিলের অধীনে দিয়ে কারিগরি থেকে ডিপ্লোমা ইন পেশেন্ট কেয়ার টেকনোলজি কোর্স সকল কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এবং বাংলাদেশ নার্সিং কাউন্সিল আইন ২০১৬ সংশোধন করে সেসকল শিক্ষার্থী প্রতিষ্ঠান কে বৈধতা দেয় নার্সিং কাউন্সিল।

এদিকে প্রথম বারের মত লাইসেন্স পরীক্ষায় বসে পিসিটি কোর্সের ৩হাজারের বেশি শিক্ষার্থী যেখানে পাস করে ৬২৬ জন ফলাফলে ভরাডুবি হলেও লাভবান তারাই কারণ তারা এখন নার্সিং কাউন্সিলের সিস্টেম এ ঢুকে পড়েছে ও পাসকৃত রা ইতোমধ্যে ডিপ্লোমা ইন নার্সিং সমমান পেয়ে গেছে,আর যারা পাস করেনি তারাও পরবর্তী সাপ্লি পরীক্ষা দিয়ে রেজিস্ট্রার নার্স হয়ে যাবে,এ দিক বিবেচনায় ফলাফল ভরাডুবি হলেও লাভবান তারাই।

এই ঘটনার প্রথম দিকে নার্সিং সংগঠন ও সাধারণ নার্সদের জোরালো আন্দোলন থাকলেও সময় যত গড়িয়েছে আন্দোলনের ধার ততই কমেছে।

আমরা জোর দাবি জানায় এন্ট্রি লেভেল যেহেতু এইসএসসি সুতরাং কাউন্সিলের অধীনের শিক্ষার্থীদের ডিগ্রি সমমানের সার্টিফিকেট প্রদান করা হোক

Leave a Reply

Your email address will not be published.