অনলাইনে ব্যবসা করে স্বাবলম্বী মার্কস নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থী নাদিরা

Spread the love

এ এক ঘুরে দাঁড়ানোর গল্পঃ

গত বছর জুন মাসে হঠাৎ স্ট্রোক করে বাবা মারা যায়। একজন টেলিভিশন মেকানিকের দোকান মালিক ছিলেন তিনি। তার আয় দিয়ে আমি ঢাকা মিরপুরের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে বি.এস সি ইন নার্সিং পড়ছিলাম। বাবার মৃত্যুর পর ছোট ভাই আমি ও মাকে নিয়ে চরম শঙ্কটের মধ্যে সংসার চলছিল। এক মাস সৎ ভাইয়ের বাসায় থাকলেও পরে তাও আর সম্ভব হয়নি। এরই মধ্যে নতুন বাসা ভাড়া নেওয়া সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে যাচ্ছিল। আত্মীয়দের দেওয়া টাকায় আর জমানো কিছু টাকায় সংসার চলছিল না। মাথায় আসে অনলাইনে কিছু একটা ব্যবসা করব। ওই সময় বাবার ব্যবহার করা পুরোনা একটি স্মার্ট ফোনে তার গ্রামীণ সিম ছিল। সেটার ওপর ভরসা করেই প্রথম থ্রি পিচের ব্যবসা শুরু করি। সে ব্যবসায় বেশি লাভ করতে পারিনি। কিছুদিন পরে থ্রি পিচের ব্যবসা বাদ দিয়ে অনালাইনে খাবারের ব্যবসা শুরু করি। প্রথম সপ্তাহে তেমন ভালো হয়নি। কিন্তু কয়েকদিন যেতেই জমে ওঠে আমার ব্যবসা। এখন ব্যবসা ভালোই চলছে। মাসে কমপক্ষে ১৫ থেকে ২২ হাজার টাকা আয় হচ্ছে।’

কথাগুলো বলছিলেন গলাচিপা পৌর এলাকার ৭নম্বর ওয়ার্ডের আনন্দ পাড়ার অনলাইন ব্যবসার উদ্যোক্তা নাদিরা জাহান হিমু।
নাদিরা জাহান হিমু জানান, তার বাবা আব্দুল জব্বার মীর।
গলাচিপা পৌর এলাকার সাগরদী রোডে ছোট্ট একটি দোকানে টেলিভিশন মেরামতের কাজ করাতেন। বাবা মারা যাওয়ার পর মা-মেয়ে মিলে শুরু করেন থ্রি পিচের ব্যবসা। তাতে তারা তেমন সুবিধা করতে পারেননি। কিছুদিন পর অনলাইনে ব্যবসার ধরণ পরিবর্তন করেন। ফেসবুকে ‘ভোজন রসিক গলাচিপা’ নামে একটি পেইজ খোলেন। পেইজে জন্মদিন, বিয়েসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের জন্য কেক বিক্রি শুরু করেন। প্রথম দিনই সাড়ে তিন শ টাকার একটা কেক বিক্রি করেন।
এতে তার মনোবল বেড়ে যায়। প্রথম মাসে তেমন একটা লাভ হয়নি। কিন্তু পরের মাস থেকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।

হিমুর মা মোর্শেদা বেগম বলেন, স্বামী মারা যাওয়ার পর অনেক বিপদের মধ্যে ছিলাম। মেয়ে (হিমু) অনলাইনে ব্যবসা শুরু করার পর এখন সংসার ভালোই চলছে। এই ব্যবসার টাকা দিয়ে নিজের পড়া ও ছোটভাইয়ের পড়ার খরচ চলছে।একই সাথে সংসারের সব খরচ এই টাকা দিয়েই চলে। বলতে পারেন এখন এটাই আমাদের একমাত্র ভরসা।

তিনি আরো বলেন, ‘মাত্র কয়েক মাসের ব্যবসার লাভ দিয়ে কেকসহ বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রী বানাতে যেসকল ‘যন্ত্রপাতি’ লাগে তা প্রায়ই কেনা হয়েছে। নতুন একটি ফ্রিজ ও একটি স্মাট ফোনও কিনেছি। মেয়েকে ব্যবসা করতে দেওয়ায় প্রথম দিকে একটু দ্বিধা দ্বন্দ্বে ছিলাম। অনলানে ব্যবসা করতে গেলে কিছু সমস্যা হয় যা আগে আমার ধারণা ছিল না।

এখন আমিও মেয়েকে সাহায্য করতে পারছি। আল্লাহর ইচ্ছায় এখন আমরা ভালোভাবেই বাসা ভাড়াসহ সংসারের সব খরচ এ ব্যবসা দিয়েই মেটাতে পারছি।
হিমু বলেন, ব্যবসা করতে বেশি পুঁজি লাগে। যা এই মুহূর্তে আমার কাছে নাই। তবে আমি বিশ্বাস করি সততার সাথে ব্যবসা করলে এক সময় ব্যবসা বাড়াতে পারব। এখন আমি প্রতি মাসে ১৫ থেকে ২২ হাজার টাকা মায়ের হাতে দিতে পারছি।

অভাবের সংসারে এটাইবা কম কী? আমি মেয়ে মানুষ হওয়ায় প্রথম দিকে প্রতিবেশিরা নানা কথা বলেছেন। তার ওপর আমার বাবা নেই। অনলাইনে অর্ডার করা পণ্য গ্রাহকের কাছে সরবারাহ করাও একটা চ্যালেঞ্জ। বড় ভাই থাকলে এ সমস্যাগুলো হয়তো হতো না। এখন টাকা দিয়ে ডেলিভারি বয় দিয়ে পণ্য সরবরাহ করা ও সম্ভব নয় তাই মা নিজেই ডেলিভারি করেন। শুধু ফেইজবুকের পেইজের ওপর ভরসা করেই ব্যবসা চালাতে হচ্ছে

এ ব্যবসা করার পর থেকে এখন আমাদের সংসারে কোনো ঋণ নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published.