নার্সিং কেন পড়বেন,পেশা হিসেবে নার্সিং, সম্ভাবনা ও আয় রোজগার কেমন?

Spread the love

নার্সিং একটি সেবামূলক পেশা। এই পেশায় যেমন মানুষের সেবা করা যায়, তেমনি ক্যারিয়ার হিসেবেও রয়েছে উজ্জ্বল ভবিষ্যতের হাতছানি। কিন্তু সঠিক তথ্য, গাইডলাইনের আর ইনফরমেশনের

For Nursing Admission Please Contact 01867902962

অভাবে অনেকেই এই পেশায় আসতে পারেন না।

বাংলাদেশে সরকারি, বেসরকারি, স্বায়ত্তশাসিতসহ শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নার্সিং বিষয়ে ডিপ্লোমা, বিএসসি, পোস্ট বেসিক বিএসসি, মাস্টার্স ইত্যাদি ডিগ্রির ব্যবস্থা রয়েছে।
সরকারি পর্যায়ে দেশে বর্তমানে ১৩ টি নার্সিং কলেজে বিএসসি-ইন-নার্সিং কোর্স পড়ানো হয় এবং আরও ৬ টি নতুন কলেজ প্রক্রিয়াধীন। ৫ টি কলেজে পোস্ট বেসিক বিএসসি ইন নার্সিং ও পাবলিক হেলথ নার্সিং ডিগ্রি দেওয়া হয়।
পাশাপাশি ৪৬ টি সরকারি নার্সিং ইনস্টিটিউটে দেওয়া হয় ডিপ্লোমা-ইন-নার্সিং সায়েন্স এন্ড মিডওয়াইফারি ডিগ্রি এবং ৪৩ টি সরকারি ইন্সটিটিউটে রয়েছে ডিপ্লোমা-ইন-মিডওয়াইফারি ডিগ্রি।
বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে বিএসসি-ইন-নার্সিং কলেজ রয়েছে ১২০ টি ও ডিপ্লোমা ইন নার্সিং ইন্সটিটিউট রয়েছে ২৭১ টি এবং ডিপ্লোমা ইন মিডওয়াইফারি ইন্সটিটিউট রয়েছে ৫৮ টি।
এছাড়াও সরকারি স্বায়ত্তশাসিত বিএসসি ইন নার্সিং কোর্স রয়েছে BSMMU’তে এবং যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে বিএসসি ইন নার্সিং কোর্স।
বর্তমানে দেশে ৩ টি স্বায়ত্তশাসিত আর্মি নার্সিং কলেজ রয়েছে, AFMI আর্মি নার্সিং কলেজ, ঢাকা; রংপুর আর্মি নার্সিং কলেজ এবং কুমিল্লা আর্মি নার্সিং কলেজ।

নার্সিং বিষয়ে পড়াশোনা-

বিএসসি ইন নার্সিংঃ
এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে উত্তীর্ণরা নার্সিং কলেজে বিএসসি কোর্সে ভর্তির আবেদন করতে পারবেন। উভয় পরীক্ষায় থাকতে হবে জীববিজ্ঞান। SSC ও HSC’তে মোট 7.00 GPA থাকতে হয় এবং SSC ও HSC’তে আলাদা ভাবে কমপক্ষে 3.00 GPA থাকতে হয়। পাশাপাশি জীববিজ্ঞানে grade point 3.00 বা এর বেশি থাকতে হবে।

ডিপ্লোমা ইন নার্সিং এবং ডিপ্লোমা ইন মিডওয়াইফারিঃ
যেকোনো বিভাগ (বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যাবসা) থেকে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণরা ডিপ্লোমা কোর্সে ভর্তির আবেদন করতে পারবেন। সব ক্ষেত্রেই এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা মিলে ন্যূনতম GPA 6.00 থাকতে হবে। SSC ও HSC’তে আলাদাভাবে জিপিএ 2.50 থাকতে হয়।

উল্লেখ্য, সরকারি নার্সিং কলেজ ও ইন্সটিটিউটে ছেলে ১০% এবং মেয়ে শিক্ষার্থী ৯০% এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ছেলে ২০% এবং মেয়ে ৮০%।

বিএসসি-ইন-নার্সিং কোর্সের মেয়াদ চার বছর এবং ডিপ্লোমা কোর্সের মেয়াদ তিন বছর। কোর্স শেষে ছয় মাস মেয়াদি ইন্টার্নশিপ করতে হয়।
ডিপ্লোমা-ইন-নার্সিং অথবা ডিপ্লোমা ইন মিডওয়াইফারি কোর্স শেষে দুই বছরমেয়াদি পোস্ট বেসিক বিএসসি-ইন-নার্সিং ও পোস্ট বেসিক বিএসসি-ইন-পাবলিক হেলথ নার্সিং কোর্সে অংশ নেওয়ার সুযোগ আছে।
এ ছাড়া অর্থোপেডিকস, সাইকিয়াট্রিক, পেডিয়াট্রিক, সিসিইউ, আইসিইউ ও কার্ডিয়াক নার্সিংসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর এক বছরমেয়াদি বিশেষায়িত কোর্স কোর্স চালু আছে।

পড়াশোনার খরচ কেমন?

সরকারি নার্সিং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নামমাত্র খরচে পড়াশোনার সুযোগ পান শিক্ষার্থীরা। উপরন্তু থাকে মাসিক উপবৃত্তি।
বেসরকারি নার্সিং কলেজ ও ইনস্টিটিউটে বিএসসি ও পোস্ট বেসিক বিএসসি পুরো কোর্সের জন্য কলেজ ভেদে দুই থেকে তিন লাখ টাকা খরচ হয়।
ডিপ্লোমা কোর্সের জন্য খরচ হবে দেড় থেকে দুই লাখ টাকা। তবে প্রতিষ্ঠানভেদে কোর্স ফি ভিন্ন হয়।
আর বিদেশে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে বেশির ভাগ শিক্ষার্থীই বৃত্তি নিয়ে পড়ার সুযোগ পান।

কাজের সুযোগ-সুবিধাঃ

দেশের সরকারি ও বেসরকারি সব হাসপাতাল, ক্লিনিক, কমিউনিটি হেলথ কেয়ার সেন্টার, নগর মাতৃসদন, ডায়াগনস্টিক সেন্টারসহ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানেই নার্সদের চাকরির সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশ থেকে নার্সিং ডিগ্রি নিয়ে বিদেশেও চাকরির সুযোগ রয়েছে।
বিগত বছরে জর্দান, মালয়েশিয়াসহ অনেক দেশে বাংলাদেশ থেকে নার্স নেওয়া হয়েছে। অস্ট্রেলিয়া, আমেরিকাসহ ইউরোপীয় অন্যান্য দেশেও বাংলাদেশের নার্সরা কাজের সুযোগ পান।

আয়-রোজগারঃ

একজন সিনিয়র স্টাফ নার্স দ্বিতীয় শ্রেণির পদমর্যাদা পেয়ে থাকেন। শুরুতেই একজন নার্সকে জাতীয় বেতনস্কেল ২০১৫ অনুযায়ী ১৬,০০০-৩৮,৬৪০ স্কেলে বেতন দেওয়া হয়।
বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে শুরুতেই একজন নার্স থেকে ১৫,০০০-২০,০০০ টাকা বেতনে চাকরি শুরু করতে পারেন। প্রতিষ্ঠানভেদে বেতনের তারতম্য হয়ে থাকে।

পদোন্নতির সুযোগঃ

একজন সিনিয়র স্টাফ নার্স তিন থেকে চার বছরে প্রথম পদোন্নতি পেয়ে নার্সিং সুপারভাইজার পদমর্যাদা পান। দ্বিতীয় ধাপে জেলা পাবলিক হেলথ নার্স, হাসপাতালগুলোতে ডেপুটি নার্সিং সুপারিনটেনডেন্ট, ওটি সুপারভাইজর, নার্সিং কলেজে ইনস্ট্রাক্টর, ডেমোনেস্ট্রেটর, ইনস্টিটিউটে নার্সিং ইনস্ট্রাক্টর বা ইনস্ট্রাক্টর ইনচার্জ হতে পারেন।
পরবর্তী ধাপে হাসপাতালে নার্সিং সুপারিনটেনডেন্ট, নার্সিং কলেজে প্রভাষক, ইনস্টিটিউটে প্রিন্সিপাল, নার্সিং অধিদপ্তরে প্রজেক্ট অফিসার ও সহকারী পরিচালক পদে পদোন্নতির সুযোগ আছে। এ সময় তাঁরা প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা হিসেবে বিবেচিত হবেন।

তবে বাংলাদেশ নার্সিং কাউন্সিলে নিবন্ধিত ছাড়া কোনো নার্স কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরির সুযোগ পাবেন না।

Post Courtesy:
রুপা রাণী দে

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.