নিয়মিত নিয়োগ হচ্ছে নার্সদের,অল্পতেই যে কেউ হতে চাচ্ছে নার্স, ঝুকিতে স্বাস্থ্যসেবা

Spread the love

বিশেষ প্রতিবেদনঃ ছয় মাসের প্রশিক্ষণ সেবা দিবে আজীবন???

নার্স এমন একজন ব্যক্তি (ছেলে ও মেয়ে উভয় নার্স) যিনি মাতৃ মমতায় একজন অসুস্থ ও অসহায় রোগীর সেবা দিয়ে সুস্থ করে তোলেন,মৃত্যু পথযাত্রীর পাশে থাকেন ও নবজাতকের প্রথম কোল হয় একজন নার্স ই।

নিঃসন্দেহে নার্সিং একটি মহৎপ্রাণ পেশা।

বর্তমান বাংলাদেশ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই নার্সিং শিক্ষা ও নার্সদের ব্যাপক উন্নয়ন করে।এরই অংশ হিসেবে ২০০৮ সালে চালু হয় বিএসসি ইন নার্সিং কোর্স।

২০১০ সালে নার্সদের পদমর্যাদা ৩য় শ্রেণী থেকে ২য় শ্রেণীতে উত্তীর্ণ করেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নার্স মাতা জননেত্রী শেখ হাসিনা।

ডিপ্লোমা ইন নার্সিং এর এন্ট্রি লেভেল এসএসসি থেকে বাড়িয়ে এইসএসসি করা হয়।

মূলত ৩য় থেকে ২য় শ্রেণীর পদমর্যাদা করার পর থেকে এবং নিয়মিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি হওয়ায় নার্সিং পেশায় শকুনের চোখ পড়ে।

নার্স শব্দ ব্যবহার করে বিভিন্ন নামে অনামে শর্ট কোর্স চালু করে একটি কুচক্রি মহল এবং হাতিয়ে নেয় কয়েক কোটি টাকা।

বাংলাদেশ কর্মকমিশনের মাধ্যমে শুধুমাত্র সিনিয়র স্টাফ নার্স নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি হলেও খোজ নিয়ে দেখা যায় গত এক যুগে পেশেন্ট কেয়ার টেকনোলজি, কেয়ার গিভার,সহকারী নার্স,জুনিয়র নার্স নানা নামে কোর্স চালায় কারিগরি বোর্ডের নামে একটি মহল সেখানে ৬,১২,১৮,২৪,৩৬,৪৮ মাসের বিভিন্ন ধাপের শর্টকোর্স চালু করে তারা।

বাস্তবতায় এসব কোর্সের কোনো পদ নাই এবং সরকারি তে কোনো নিয়োগ ও নাই। সবাই এসব কোর্স করে বেসরকারি  হাসপাতালে নার্স সেবা ও নার্স হিসেবে কাজ করছে

অথচ এসকল কোর্সের কোনো পদ নেই আমাদের দেশে।

মূলত বেসরকারি কিছু স্বার্থান্বেষী হাসপাতালে শর্ট কোর্স করা এসব শিক্ষার্থী রা খুবই কম পারিশ্রমিক এ কাজ করছে এতে স্বাস্থ্য ঝুকিতে পড়ছে সাধারণ মানুষ।

কারণ বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিল থেকে পাসকৃত শিক্ষার্থী রা এইসএসসি পাশ ও আন্তর্জাতিক মানের নার্সিং শিক্ষা কারিকুলাম অনুযায়ী বিজ্ঞান সম্মত অর্থাৎ হিউম্যান এনাটমি, ফিজিওলজি, মাইরক্রোবায়োলজি,ফান্ডামেন্টাল অব নার্সিং সহ আরও ১২-১৫ টি বিষয় এ সম্পূর্ণ ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনা করেন।

অথচ এসব নামে অনামে শর্ট কোর্স এ শুধু মাত্র হাতে কলমে শেখানো হচ্ছে, আমরা জানি নার্সিং সেবার মূলত কাজ ক্যানুলা, ইনজেকশন ও মেডিসিন মেইন্টেইন করা।

তবে মেডিসিন দিতে গেলে ক্যালুনা, ক্যাথেটার সহ বিভিন্ন ধরনের কাজ করতে হয় তবে ক্যানুলা, ইনজেকশন দেওয়া ও ক্যাথেটার করার জন্যে হাতে কলমে শিখতে খুব একটা কষ্টের প্রয়োজন পড়ে না তবে বিজ্ঞান সম্মত ভাবে করতে গেলে অবশ্যই আপনাকে এনাটমি ফিজিওলজি সহ মেডিকেল বিষয় এ জ্ঞানার্জন করা জরুরি।

প্রত্যন্ত ও দেশের জেলা শহরের হাসপাতালে ঘুরে দেখা যায় নার্স পদে সেবা দিচ্ছেন এসব অনভিজ্ঞরা এতে স্বাস্থ্যঝুকিতে আছেন দেশের মানুষ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.